বাজিমাত করে দিন এবারের বাবা দিবস আর ফুটবল বিশ্বকাপ

বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা সময় জুড়েই থাকে প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটারদের জন্য অসাধারন সব ইভেন্ট। যে ইভেন্টগুলোকে টার্গেট করে মার্কেটাররা আয় করে নিতে পারে হাজার হাজার ডলার। সাধারন নিশের সাথে ইভেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারলে হতে পারে ভালো কিছু।

এমন অনেক অনেক ইভেন্ট আছে যাতে প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটাররা আয় করতে পারে চাহিদার চাইতেও বেশি। যেমন ধরি সেন্ট পেট্রিক্স ডে, মাদার্স ডে, ক্রিসমাস ডে ইত্যাদি। ঠিক এমনই কয়েকটি ইভেন্ট আসছে আগামী বেশ কয়েকটি মাস জুড়ে যার মধ্যে একটি ইভেন্টের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে ৪ বছর পর। হয়তো কথা শুনেই বুঝতে পেরেছেন আমি কোন ইভেন্ট নিয়ে কথা বলছি। আচ্ছা যাই বুঝেছেন তা আমি এখন  না বলে পরেই বলি।

তাহলে শুরু করা যাক নতুন কিছু শেখা। আজকের পোস্টে আমি শেয়ার করার চেষ্টা করবো এই বিশেষ ইভেন্টগুলোতে আপনি কিভাবে ডিজাইন করবেন, কি ধরনের মেসেজ নিয়ে ডিজাইন করবেন, টার্গেটিং কিভাবে করবেন ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়। আর কাজে লাগিয়ে ঠিক মত আইডিয়া জেনারেট করে কাজ করতে পারলেই আপনি বুম করতে পারেন যে কোন সময়। তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক।

বছরের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট এর একটি বলা হয় দিবসটিকে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড মার্কেটারদের জন্য এই ইভেন্ট বিশাল এক আশীর্বাদ। বাংলাদেশে টিস্প্রীং এর মাধ্যমেই প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস এর পথ চলা শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। তখন থেকে বরাবরই দেখে এসেছি এই দিবসটি কিভাবে সারা বিশ্বে উদযাপন করা হয়। এবং এই উদযাপন কে কেন্দ্র করেই টিস্প্রীং মার্কেটাররা সেল করে নেয় হাজার হাজার ইউনিট। এ বছরের জুন মাসের ১৭ তারিখ দিনটি সারা বিশ্বে উদযাপন করা হবে।

প্রথমেই যদি রিসার্চ বিষয়টা নিয়ে কথা বলি তাহলে আমি বলবো উইকিপিডিয়া থেকেই আপনারা চাইলে Father’s Day History জেনে নিয়ে তারপর কাজ করতে পারেন। এ বিষয়ে আপনাকে জানতে হবে কেন বাবা দিবস উদযাপন করা হয়, কারা বাবা দিবস উদযাপন করে, বাবা দিবসে সন্তানরা কি কি করে, কি কি গিফট দিয়ে থাকে বাবাদের ইত্যাদি আরো অনেক গুলো বিষয় আছে যা চাইলেই গুগল মামাকে জিজ্ঞাসা করলেই বলে দিবে আপনাকে। এই জায়গাটায় আপনাকে অনেক বেশি পরিমান সময় ব্যয় করতে হবে নিঃসন্দেহে।

এরপর আপনাকে জানতে হবে বিগত বছরগুলোতে কোন ধরনের বাবা দিবসের শার্ট সবচেয়ে বেশি পরিমান সেল হয়েছে তা সম্পর্কে। সেই মেসেজ গুলো কেমন ছিলো, ডিজাইনগুলোর মেসেজে কি ধরনের ইমোশন ব্যবহার করা হয়েছে ইত্যাদি অনেক কিছুই আপনাকে খুজে বের করতে হবে। সাথে সাথে আপনাকে খুজে বের করতে হবে অন্যান্য মার্কেটে কি ধরনের ডিজাইন এই বছর বাবা দিবসের জন্য প্রতিনিয়ত আপলোড করা হচ্ছে তার দিকে। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি কি ধরনের ডিজাইন করলে আপনার শার্ট সেল হতে পারে। নিচে বাবা দিবসের সফল কয়েকটি টি-শার্টের ইমেজ দিয়ে দিলাম যা বিগত বছরগুলোতে বাবা দিবসের তো বটেই, পুরো টিস্প্রীং এর টপ সেলিং শার্টের তালিকায় নাম লেখিয়ে নিয়েছে।


Teespring Best Seller Father’s Day T-shirt

যদি আপনি কাজ করেন তাহলে কত ইউনিট আপনি সেল করতে পারবেন? প্রশ্নটি যদি এমন হয়, তাহলে আমি বলবো এটি কখনোই অনুমান করা যায় না।। তবে মজার বিষয় হচ্ছে যদি আপনার মেসেজ, ডিজাইন কনসেপ্ট বা ডিজাইন হয় একদম ইউনিক কিছু, যা অন্য কোন বাবা দিবসে কখনোই দেখেনি কেউ। এমন ইউনিক কিছু যদি বাবাদের কাছে বা সন্তানদের সামনে তুলে ধরতে পারেন, তাহলে ধরে নিতে পারেন এবারের বাবা দিবসে আপনি হয়ে যাবেন ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটের মালিক আর আমি আপনার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া।

তার মানে বুঝেই গিয়েছেন আমি কি বোঝাতে চেয়েছি। আর শুধুমাত্র নিজের ডিজাইন এর উপর কনফিডেন্স থেকে মার্কেটিং করা শুরু করলেই যে আপনি উইনার হয়ে যাবেন তাও কিন্তু নয়। মাথায় রাখতে হবে আপনার কম্পিটিটররা কখন কি ধরনের শার্ট মার্কেটে লঞ্চ করছে তা আপনাকে খোজ রাখতে হবে।

অনেককেই দেখি বাবা দিবসে ভালো সেল করা যায় এই কথাটা শুনার পরেই দুনিয়ার যত কমন আর যত বাজে ডিজাইন কনসেপ্ট আছে তা দিয়েই ডিজাইন করে গ্রুপে রিভিউ চাওয়া শুরু করে। আসলে যতটা সহজ ভাবা হয় ততটা কিন্তু সহজ নয়। মনে রাখতে হবে আপনি যে ধরনের কমন আইডিয়া নিয়ে চিন্তা করছেন, তা ইতিমধ্যে স্পয়েল হয়ে গিয়েছে। কারন এগুলো অনেকেই ব্যবহার করে ফেলেছে। এসব কমন চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে এসে সঠিক রিসার্চ করেই কেবল আইডিয়া জেনারেট করে ডিজাইন করুন।

অনেককেই আবার দেখা যায় ২-৪ অথবা ১০টি শার্ট ডিজাইন করেই বসে থাকেন আর লস করে বসে থাকেন। তারপর নিজেই হতাশ হয়ে যান। এমন অনেককেই দেখেছি যারা এমন করে। নিশ্চয় এই বিষয়টি থেকে আপনাকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি গ্রুপে প্রায় সময়ই এই কথাটা বলে থাকি ততক্ষন পর্যন্ত আপলোড করুন, যতক্ষন পর্যন্ত আপনার সেল আসছে না এবং বড় কোন ক্যাম্পেইনে হিট করতে পারছেন না। তাই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর দিকে নজর রেখে কাজে নেমে পরুন।

বাবা দিবসের ফেসবুক টার্গেটিং

এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলেই অনেক অনেক কথা মুখ থুবরে বের হয়ে আসবে। তবে এত এত কথা আসলে এই সংক্ষিপ্ত ব্লগ পোস্টে লিখা খুবই দুঃসাধ্য বিষয়। আর এই দুঃসাধ্য বিষয়কে সাধন করতে Zafidigital.com এর Advance T-shirt Marketing Course টি আপনার জন্য অনেক কার্যকরী একটি কোর্স হবে বলে আমি মনে করি। দেশের সবচেয়ে সফল প্রতিষ্ঠানের এই কোর্সে জয়েন করতে পারেন আপনিও।

কিন্তু আজকের এই পোস্টে আপনাদের কিছু ধারনা তো অবশ্যই আমি দিবো যেগুলো না দিলেই নয়। শুরুতেই চলে আসি কারা কারা বাবা দিবসে শার্ট কিনে থাকে।

বাবা দিবসে স্পেশালি বাবাদের ডেডিকেট করতে সন্তানরাই কিনে থাকে বেশি। তাই বলে যে বাবারা কিনবে না তা কিন্তু নয়। এই দিবসকে সরন করে রাখতে বাবারাও কেনা কাটা করে থাকে সন্তানদের এই দিনে গিফ্ট দেওয়ার জন্য। তাছাড়াও যাদের ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা আছে তাদের তরফ থেকে বাবাদের গিফট দেওয়ার জন্য মায়েরাও কিনে দিতে পারে বাচ্চাদের যা বাবাদের গিফট্ করবে ছোট্ট সন্তনটি যেটা আসলেই বাবাদের কাছে ইমোশোনাল একটা বিষয় হয়ে যায়।

যদি সন্তানদের টার্গেট করার চিন্তা করেন তাহলে এই দিবস বেশি সেলিব্রেট করে ১৮ থেকে ৩০ বছরের সন্তানরা। এরা কেনা কাটা করে অনেক বেশি বাবাদের গিফট দেওয়ার জন্য। এদের আপনি যে কোন প্রকার টিন এজ রিলেটেড পেইজকে বা ফ্যাশন রিলেটেড পেইজকে টার্গেট করে এড রান করতে পারেন। তবে অবশ্যই ভাবতে হবে আপনার টি-শার্টের ম্যাসেজে কার প্রতি কার ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি সন্তানদের টার্গেট করতে চান তাহলে অবশ্যই একজন সন্তানের কাছে তার বাবা কেমন সেটার বহিপ্রকাশ করতে হবে। এক্ষেত্রে উপরে আমার দেওয়া ৩ টি টি-শার্টের একটির ম্যাসেজ হলো “If Papa Can’t Fix It, No One Can’t”। এই মেসেজটি সন্তানরা তাদের বাবার স্কিল সম্পর্কে বর্ননা করেই প্রাউড ফিল করবে। বাবারাও পরতে পারে এমন শার্ট।

ডিরেক্ট বাবাদের টার্গেট করেও আপনি এড দিতে পারেন যদি আপনার শার্টটি হয়ে থাকে ডিরেক্ট বাবাদের টার্গেট করে। এক্ষেত্রে খুব সহজেই আপনি ফেসবুক এড ম্যানেজারের নিচের স্ক্রিনশট ফলো করেই টার্গেট করতে পারবেন।

মজার বিষয় হচ্ছে ৩০ বছরের পর থেকে সকল পুরুষকে মোটামুটি আপনি বাবা হিসেবে ধরে নিতে পারেন। তাই বয়সের জায়গায় আপনি ৩০ থেকে চিন্তা করতে পারেন। অথবা সন্দেহ বাদ দিয়ে একদম ৩৫ থেকেই টার্গেট ধরতে পারেন। এভাবে টেস্ট করুন আপনার ইউনিক প্রোডাক্ট। শুরু করুন কাজ করা।

এই ব্লগ পোস্টের মুল আকর্ষন হলো আজকের এই টপিক। ফিফা বিশ্বকাপ এবার হতে পারে মার্কেটারদের জন্য অন্য রকমের একটি ইভেন্ট। ২০১৮ সালের জুন মাসের ১৪ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এই আসরটি। এই আসর প্রতি ৪ বছর পর পরই একবার করে আসে আর এখানে সেল করার সম্ভাবনা খুব বেশি না থাকলেও আবার অনেক সম্ভবনাই আছে। কেন কম সম্ভাবনা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করছি একটু পরেই।

ফুটবলকে বলা হয় ওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে পছন্দনীয় খেলা। আর এরই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই চর্চা হয় ফুটবলের। এতটাই ফেমাস যে ফুটবল ক্লাব নিয়েও থাকে সারা বছর হই চই। আর যখন এই খেলাটির সর্বোচ্চ আসরই শুরু হতে যাচ্ছে তাহলে তো বুঝতেই পারছেন জনমনে কত উচ্ছাস বিরাজ করছে। আর এই উচ্ছাসকে কাজে লাগিয়ে আপনি আয় করে নিতে পারেন চাহিদারও দিগুন।

কিন্তু এই জায়গায় আমার দৃস্টিতে প্রথম বাধা হবে সাপোর্টারদের জার্সি কেনার প্রবনতা। কারন এই সময়ে সবাই নরমাল টি-শার্ট থেকেও বেশি পছন্দ করে নিজের দলের জার্সি পরতেই। পছন্দের খেলোয়ারের নাম্বার ও নাম খচিত জার্সি তো পছন্দের তালিকায় থাকেই, সাথে এ সময় প্রতিটি টিমের নতুন জার্সির প্রতি সবার আকর্ষন টা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে।

কিন্তু এত কিছুর ভীড়েও আমরা চাইলেই এই বিশাল আসরকে ঘিরে সেল করতে পারি টি-শার্ট। কয়েকটি ট্রিক এখানে শেয়ার করবো তার মধ্যে প্রথমটি হলো পছন্দের খেলোয়ারের জার্সি নাম্বারের ব্যবহার। প্রত্যেকটি দেশের একজন বা দুইজন সেরা খেলোয়ার থাকে যা আমরা সবাই প্রায় জানি বা না জানলে রিসার্চ করলেই বের হয়ে আসবে তারা কারা। যদি এমন করা যায়, যে খেলোয়ার কে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে তাদের জার্সি নাম্বার দিয়ে একটু করে যদি জার্সির মত আদল তৈরি করা যায় তাহলে সেল হবার সম্ভাবনা থাকবে বলে আমি মনে করি। এটা শুধুমাত্র একটি ট্রিক এর কথাই বললাম।

কিন্তু এমন আরো অনেক অনেক ওয়ে আছে যেখানে আপনি চাইলেই একটি দেশের ফুটবল টিমকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন তাদের ফ্যানদের কাছে।

আর এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের আরো বেশি সম্ভাবনা থাকার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে নতুন নতুন অনেক টিম এর আবিভাব। এবারে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ট্র্যাজিডির কথা আপনারা কম বেশি সবাই জানেন। আর সেই সুযোগে নতুন নতুন টিমদের নিয়েই আপনারা তৈরি করতে পারেন টি-শার্ট।

প্রত্যেকটি দলের নিজেদের কিছু স্লোগান থাকে যেটা ফ্যান ফলোয়ারদের সবার জানা আছে। আর এমন স্লোগানগুলোকে ব্যবহার করে নিমিষেই তৈরি করে নিতে পারেন ইউনিক ডিজাইনের শার্ট যা ফ্যানদের মন কেড়ে নিতে পারে। আরো অনেক কিছুই থাকতে পারে যা আপনাদের রিসার্চ থেকেই বের হয়ে আসবে যদি সঠিকভাবে করা হয়। তাহলে আর দেরি কেন।

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ফেসবুক টার্গেটিং

বিশ্বকাপ নিয়ে যারা যারা ফেসবুকে এড এ যাবেন, তাদের জন্য খুব সহজ হবে ফেসবুক টার্গেটিং। কারন এখানে আপনার বেগ পোহাতে হবে না বেশি। কারন স্পেসিফিক ফ্যান ফলোয়ার খুজে পাওয়া আসলেই খুবই সহজ। লক্ষ মানুষের ভিড়ে যেমন বাবাদের বের করতে কঠিন মনে হয়, ঠিক এই জায়গায় আসলেই দেখবেন টার্গেট করাটা অনেক সহজ।

যে দেশ নিয়ে টার্গেট করছেন অথবা যে প্লেয়ারের ফ্যানদের টার্গেট করছেন তাদের পেইজগুলোকে টার্গেট করলেই আপনি খুব সহজেই আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছে যাবেন। এখানে অতিরিক্ত কিছু করতে গেলে বয়স অথবা জেন্ডার নিয়ে কিছু করতে পারেন।

এর বাইরেও আরো অনেক টার্গেটিং রুলস্ আছে যা আজকের ব্লগ পোস্টে লিখতে গেলেই হয়তো একটা উপন্যাস লিখে ফেলতে হবে। কিন্তু এত এত কস্ট মনে হয় আমাকে করতে হবে না। কারন Zafidigital.com এর Advance T-shirt Marketing Course  জয়েন করার সুযোগ আছে সব সময়। আর যদি ওয়ার্ল্ড কাপ ও বাবা দিবসের সেলকে দিগুন করতে চান তাহলেই আজই জয়েন করতে পারেন আমাদের এডভান্স মার্কেটিং কোর্সে।

তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পোস্ট নিয়ে আপনাদের মুল্যবান মতামত অবশ্যই আশা করছি। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *