আশিক মিয়ার সফলতার গল্প- ZafiDigital.com

আসসালামু আলাইকুম,

আমি মোহাম্মদ আশিক মিয়া, অল্প কিছুদিন হলো আমি অনলাইনে কাজ করা শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ আমি এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো সাকসেস পেয়েছি। আজকে আমি আমার সাকসেস স্টোরি আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করবো।

Zafar Hossain Zafi ভাই এর মোটিভেশনাল ভিডিও দেখেই আমি সর্বপ্রথম কাজ করা শুরু করেছিলাম। ঐ ভিডিওটা ছিলো প্রতি মাসে ১০০০+ ডলার ইনকাম করে এমন সব মার্কেটারদের নিয়ে। যাফি ভাইয়ার ভিডিওটার যে অংশটার কারনে আজকের আমার এই পরীবর্তন, সেটা হচ্ছে ভাইয়া ভিডিওতে বলেছিলেন যে “অন্য সবাই যদি করতে পারে, তাহলে আপনি কেন পারবেন না? আপনি কি ভাত খান না?” আপনার কি তাদের মত হাত পা বা মেধার অভাব আছে? আপনার কি তাদের মত পরিশ্রম করার মত সাহষ নাই? আপনিও তো তাদের মত মানুষ। যদি তারা করতে পারে তাহলে আপনিও করতে পারবেন। আর সেই কথার পর থেকেই মনের মধ্যে এক প্রকারের বলা যায় সাহস চলে আসে। সেখান থেকেই আমার কাজ করা শুরু।

সেটা ছিলো ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের শুরুর দিক থেকে। আমি কাজ শুরু করে দেই ভাইয়ার ভিডিও দেখার পর পরই। আল্লাহর রহমতে ৩ মাসের মাঝে নভেম্বার ২০১৬ তে আমি ১০০০+  ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করি । আলহামদুলিল্লাহ। এর পরের মাস গুলোতে আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। আমি এখন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে আমি আশা করি কয়েক দিন পরেই আমার একটা চ্যানেল ভেরিফাইড হবে।

আমি প্রত্যেক দিন ১০-১৫ টা করে ভিডিও বানাইতাম। টানা ৩ মাস খেয়ে না খেয়ে শুধু কাজ করেছি। এমনও দিন গেছে যখন সকাল ৬ টা বেজে যাওয়ার পরেও ঘুমাই নাই। অনেক পরিশ্রম করেছি। দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে কাজ করেছি। অসম্ভব ছিলো, কিন্তু সম্ভব করাও কষ্ট ছিলো না। কারন কষ্ট যখন মিস্টি লাগবে, সফলতা তখন আসবেই। শুধু মাথায় এই কথাটাই ঘুরতো। এক সময় আমি ভালো অবস্থানে গিয়ে দাড়াতো পারবো শুধু এই কথাটাই আমার মাথার মধ্যে ঘুরতো। তখনই কাজের গতি আরো বেড়ে যেত, আর আমি কাজ করতেই থাকতাম। থামিনি কখনো।

জাফি ভাইকে কি বলে ধন্যবাদ জানাব সেই ভাষা আমার নাই। উনার একটা ভিডিওতেই আল্লাহর রহমতে আমার জীবন পাল্টে গিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

আরেক জনের কথা না বললেই নয়। তিনি হলেন রাজিকুল আলম রাজীব ভাই আমি ওনাকে সব সময় পাশে পেয়েছি এখনো আমাকে হেল্প করছেন।ওনাকেও অসংখ ধন্যবাদ।

কেউ যদি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে আমি কিভাবে কাজ করেছি অথবা আমার কাছ থেকে কেউ যদি কোন টিপস্ চান তাহলে আমি এভাবে বলতে পারি। অনেকেই আছেন গ্রুপে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেন “ভাই আমার ভিডিওতে ভিউ নেই, ক্লিক নেই, আর্নিং আসছে না” আরো অনেক অনেক কথা। আসলে যারা যারা এসব কথা বলেন আপনাদের জন্য বলবো, চুপ চাপ ৩ মাস আপনার চ্যানেলে ভিডিও দিতে থাকুন। ভিডিও গুলো যেন তেন না করে সময় নিয়ে ভালো ভিডিও দিতে থাকুন। সপ্তাহে ২-৩ টা ভিডিও অথবা সপ্তাহে ১ টা অথবা আপনি যদি কোয়ালিটি ধরে রাখতে পারেন আপনার ভিডিও এবং কনটেন্ট সহ, তাহলে আমি বলবো প্রতিদিন ভিডিও দিতে থাকুন চ্যানেলে। এভাবে ৩ মাস আপনি ভিডিও দিয়ে চ্যানেল ভরিয়ে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ, ৩ মাস পার হতে না হতেই আপনার আর্নিং আসা শুরু হয়ে যাবে।

আর সময়কে কখনো নষ্ট করবেন না। আজকের যে সময় আছে কাল হয়তো সেই সময় নাও থাকতে পারে। আমি যদি আমার পার্সোনাল কথা বলতে যাই তাহলে হয়তো অবাকও হতে পারেন। আমার কাছে স্মার্টফোন থাকা সত্বেও আমি কখনোই আমার ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ ক্রয় করি না। কারন এতে করে আমার কাজের মধ্যে ব্যঘাত ঘটে। আমি যেন আমার কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে পারি সে জন্যেই এই পন্থা অবলম্বন করা। আমি কাজ করতে পছন্দ করি আর আমি আমার সময়গুলোকে কাজে লাগাতে চাই। তো কাজ করুন সময়কে অবহেলা করবেন না। ঠিক এই কথাগুলোই আমি শ্রদ্ধেয় যাফি ভাইকে বলেছিলাম উনার সাথে মিট করার পর।

আমি আজকে কয়েকটা স্ক্রিনশর্ট শেয়ার করব আমার সাকসেস এর যেখানে আমি দেখিয়েছি আমার চ্যানেল এর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ এর স্ক্রিনশট।

অবশেষে ধন্যবাদ জানাই আমার বন্ধু হাসান মিয়া’কে যে আমাকে অনলাইন কমিউনিটিতে আনছে।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমার স্টোরিটি পড়ার জন্য। কাজ করে যান, সফলতা আসবেই ইনশআল্লাহ।

এবং ধন্যবাদ যাফি ভাইকে আমার পোস্টটি Zafidigital.com এর ব্লগে পোস্ট করার জন্য।

বিঃ দ্রঃ- আজকে শুধুমাত্র আমার সফলতার গল্প লিখলাম। ইনশাআল্লাহ অন্য কোনদিন কেস স্টাডি সহ পোস্ট করার চেস্টা করবো। আমার জন্যে সবােই দোয়া করবেন আমি যেন আরো বেশি বেশি সফলতা নিয়ে আপনার সবার সামনে দাড়াতে পারি, আপনাদের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।

8 comments on “আশিক মিয়ার সফলতার গল্প- ZafiDigital.com

Reply

Congratulations. Inspirational story, Keep going ahead. Make new record & make it over and over again. We hope you can In-sha-Allah.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *