স্লাইড ভিডিওর দিন কি তাহলে শেষ? ভিডিও মার্কেটিং ২০১৭

সাম্প্রতিক ইউটিউব আপডেটের পর থেকেই একটা কথা প্রায়ই সবাই শুনছেনঃ স্লাইড শো ভিডিও আর চলবেনা। এটা ছাড়াও আরো বেশ কিছু ভিডিও মার্কেটিং প্র্যাকটিসেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো নিয়ে অন্য কোন একদিন লিখার চেষ্টা করব। আজকে কথা বলতে চাই স্লাইড ভিডিওর ভবিষ্যত নিয়ে। আপনার মনের মধ্যে যদি ইতোমধ্যেই স্লাইড শো নিয়ে সংশয়, দ্বিধা-দন্দ শুরু হয়ে গিয়ে থাকে, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার সকল কনফিউশন দূর করে দিয়ে আপনাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন গাইডলাইন দিবে আশা করি।

 

স্লাইড ভিডিও বলতে আসলে কি বুঝি?

প্রথমেই সবাইকে প্রশ্ন করতে চাই, যখন আমরা বলছি স্লাইড ভিডিও – তখন আসলে আমরা কি বুঝাতে চাচ্ছি? আমি সবসময়ই আমার ভিডিও মার্কেটিং কোর্সের ক্লাসে বলে থাকি যে স্লাইড ভিডিও বলে আসলে কোন শব্দই থাকা উচিত না। তাহলে এই টার্মটি কোথায় থেকে আসল?

তার আগে আসলে আমাদের বুঝতে হবে যে আসলে ভিডিও কনটেন্ট বানানো যায় কত ভাবে। একটু ভাল করে ভেবে দেখুন যে পুরো পৃথিবীজুড়ে যত মানুষ যত ভিডিও বানাচ্ছে, তা আসলে বানাচ্ছে মাত্র ২টা উপায়ে। এক হল ক্যামেরা দিয়ে কিছু শ্যুট করে ভিডিও বানাচ্ছে, আর অন্য উপায় হল কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিডিও বানাচ্ছে। উদাহরন দেইঃ আপনি টিভিতে যত নাটক দেখেন সেগুলো সব ক্যামেরা দিয়ে তৈরী ভিডিও। আবার আমরা অনেকেই নামকরা এনিমেশন মুভি Cars কিংবা Toy Story দেখেছি – এগুলো হল কম্পিউটারে বানানো ভিডিও যেখানে 3D Animation-এর কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে আপনি যদি ইউটিউবের The Richest চ্যানেলের ভিডিও দেখেন, তাহলে বুঝবেন তাদের বানানো ভিডিও হল কম্পিউটারে তৈরী। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুটেজ, ইমেজ কালেক্ট করে সফটওয়্যার দিয়ে সেগুলো এক করে সাথে টেক্সট, ইফেক্ট ইত্যাদি যোগ করে একটা ফাইনাল ভিডিও তৈরী করছে। এছাড়াও এখন অনেকেই VideoScribe দিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন, যেগুলোকে আসলে বলা হয় Whiteboard Animation Video. এগুলোও কিন্তু কম্পিউটারে তৈরী ভিডিও।

তাহলে এবার বলেন স্লাইড ভিডিও আসলে কি ? স্লাইড ভিডিও বলতে আমরা যা বুঝি তা আসলে কম্পিউটারে বানানো যায় এমন অনেক অনেক উপায়ের মধ্যে একটা উপায়ে বানানো ভিডিও। স্লাইড ভিডিও কথাটা আসলে এসেছে অনেক আগের একটা প্র্যাকটিস থেকে। ইউটিউব মার্কেটিং-র শুরুর দিকে ভিডিও মার্কেটারদের কাছে এত এত সফটওয়্যার ছিলনা কিংবা ক্যামেরা সেটাপ এত সহজলভ্য ছিলনা, তারা তখন পাওয়ারপয়েন্টে স্লাইড বানিয়ে সেটাকে রেকর্ড করে ভিডিও বানানো শুরু করত। মূলত সেখান থেকেই কথাটা শুরু। কিন্তু সময়ের সাথে ভিডিও বানানোর উপায়ের অনেক প্রসার হলেও টার্মটা থেকে গেছে।

তাহলে আমরা কিন্তু ১০০% সিউর যে মাত্র ২টা উপায়ে ছাড়া আর কোন উপায়ে এই দুনিয়ায় ভিডিও বানানো সম্ভব না। তাহলে এবার বলুন তো – এমন কি কোনদিন হবে যে ইউটিউব বলবে আমি আর কম্পিউটার জেনারেটেড ভিডিও এলাও করবনা, এখন থেকে শুধু ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করা ভিডিওই চলবে, আর কিছু চলবেনা। হবে এরকম কখনও? নাহ, এরকম হওয়ার কোন চান্সই নেই ইন শা আল্লাহ।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে – সবাই যে বলছে স্লাইড ভিডিও চ্যানেল টিকেনা, এইসব নিয়ে আর কাজ করা যাবেনা? পড়তে থাকুন উত্তর দিচ্ছি।

 

স্লাইড শো না, বরং লো কোয়ালিটি ভিডিওর দিন শেষ

এবার উপরের প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া শুরু করছি। প্রথমত, আবারো বলছি স্লাইড ভিডিওকে আলাদা করে ভাবার কোন দরকারই নেই, সুতরাং স্লাইড নিয়ে কাজ করা যাবে কি যাবেনা, সেই প্রশ্নের কোন অবকাশই নেই। তাহলে চারপাশে যেই আলোচনা চলছে কিংবা ইউটিউব যেরকম ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেগুলোর অর্থ কি দাড়াচ্ছে? আসলে এই আপডেটগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এখন থেকে লো কোয়ালিটি ভিডিওর দিন শেষ। ইউটিউবের অথোরিটিদের কথাও কিন্তু একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপনি ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে বানালেন নাকি কম্পিউটারে বানালেন সেটা তেমন একটা বিষয় না। বিষয় হল আপনার দেওয়া কনটেন্টের ওজন কতটুকু। এমন অনেক নিশ আছে, বিষয় আছে যেখানে ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করার স্কোপ নেই বা প্রয়োজন নেই, সেসব নিশে মানুষ ভ্যালুয়েবল কিছু জানতে চায়, শিখতে চায়। আপনি তাদের সেগুলো শিখান, এবং খুবই আকর্ষনীয় ভিডিও বানিয়ে শিখান।

নিজেই ভেবে দেখুন, কয়েকটা ইমেজ আসছে আর যাচ্ছে, তার উপর সামান্য কিছু লেখা – এই ভিডিও দিয়ে আপনি কিভাবে আপনি আপনার ভিউয়ারকে ‘উপচে পড়া’ ভ্যালু দিবেন? কিন্তু এই কাজটিই যদি আপনি অন্যভাবে করেন? ভেবে দেখুন, ইমেজগুলো শুধু আসছে আর যাচ্ছেনা, বরং এমনভাবে ইমেজগুলো চোখের সামনে ভেঙ্গে ভেঙ্গে তৈরী হচ্ছে যে চোখ সড়ানো যাচ্ছেনা। ইমেজ, টেক্সট, ভয়েস কিংবা ভিডিও – সবকিছুই ইনফরমেশন বহন করে। বলা হয়, একটা ইমেজ দিয়ে ১০০০ শব্দের সমান ইনফরমেশন প্রকাশ করা যায়। তাহলে আপনার ভিডিওতে ইনফরমেশন এবং ভ্যালুর অঢেল মিশ্রন ঘটান।

একটা জিনিস মনে রাখবেনঃ ইউটিউব মানেই এডসেন্স থেকে ইনকাম করার জায়গা না। পুরো ইন্টারনেট পপুলেশনের তিন ভাগের এক ভাগই ইউটিউবের ট্রাফিক! এত এত অডিয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে আপনি যেকোন বিজনেস দাড় করাতে পারেন। ইউটিউবের ট্রাফিক ব্যবহার করে সিপিএ মার্কেটিং ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমাদের দেশে। আবার, পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কাছে ইউটিউব একটি বিনোদনের জায়গা। এই বিনোদন শুধু হাসি ঠাট্টা নয়, এই বিনোদন হতে পারে নতুন কিছু শিখার মধ্যেও, নতুন কিছু জানার মধ্যেও। তাই আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন, আপনি যেই চ্যানেলটি খুলছেন – সেটা থেকে ইউটিউবের মানুষেরা কি পাবে?

 

কি ধরনের ভিডিও লো কোয়ালিটি ভিডিওর মধ্যে পড়ছে?

ইউটিউবে বছরের পর বছর প্রচুর কনটেন্ট আপলোড করা হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সবরকম বিষয় নিয়েই এখানে ভিডিও পাওয়া যাবে এবং আজ থেকে ইউটিউব আর কোন নতুন ভিডিও আপলোড করতে না দিলেও যে পরিমান ভিডিও তাদের আছে, তা দিয়ে দিব্যি আরো ১০ বছর ইউটিউব ভিউ পেতে থাকবে। তার মানে ইউটিউব এখন থেকে বেশি পরিমান কনটেন্টের প্রতি জোড় না দিয়ে ভাল এবং ইউনিক কনটেন্টের প্রতি জোড় দিবে। কপি কনটেন্টের কোনরকম কোন চান্সই নাই ইউটিউবে জায়গা করে নেওয়ার। আপনাকে এখন একজন ক্রিয়েটর হতে হবে। নিজের ভিডিও নিজে বানাতে হবে, আইডিয়া অন্যের হতেই পারে, ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে এটা খুবই সাধারন ব্যাপার। আপনি আরেকজনের আইডিয়া থেকে ইন্সপায়ারড হয়ে নতুন কিছু বানাবেন। তার মানে আপনার ভিডিও যদি ইমেজ দিয়েও বানান, সেক্ষেত্রে আপনার ইমেজগুলো হতে হবে কপিরাইটমুক্ত অথবা পারমিশন নেওয়া ইমেজ অথবা আপনার নিজের বানানো/তোলা ইমেজ/ফটো।

আপনার অডিয়েন্সকে বুঝা শুরু করুন এখন থেকে। আমার ক্লাসে আমি সবসময় অডিয়েন্স রিসার্চের উপর জোড় দিয়ে মার্কেটিং কনসেপ্ট শিখাই। এর কারন একটাইঃ দিন শেষে আপনি একজন মার্কেটার। আপনার টার্গেট অডিয়েন্সকে যদি নাইই বুঝতে পারলেন তাহলে তার মন মত কনটেন্ট কিভাবে দিবেন তাকে? উদাহরন দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে-

মনে করুন আপনার অডিয়েন্স জানতে চাচ্ছে “Top 10 most beautiful cities in the world” – এবার বলেন তো কয়জন মানুষ দুনিয়া সেরা ১০টা শহর ঘুড়ে নিজ হাতে সেখানকার ভিডিও করে নিয়ে আসতে পারবে? কম্পিউটারে বানানো ভিডিওর যদি দিন শেষই হয়ে থাকে তাহলে কি এই বিষয়ে কোন ভিডিও থাকবেনা ইউটিউবে? কিন্তু মানুষ তো এগুলো জানতে চায়। কি জানতে চায়? মানুষ জানতে চায় পৃথিবীর সেরা শহরগুলো কোনগুলো, সেই শহরগুলো দেখতে কেমন, কেন তারা সেরা ১০ শহর, কি এমন আছে সেখানে, এত শত কৌতুহল ঘুড়ছে অডিয়েন্সের মাথায়। আপনার কাজ হল সেই কৌতুহল মিটানো, তবে যেন তেন ভাবে না। এই ইনফরমেশন দিতে হবে আকর্ষনীয় ভাবে। যেন আপনার ভিউয়ারের চোখ সরে না যায়। সে যেন মন ভরে দেখে, সে যেন বলে এটাই তো জানতে চাচ্ছিলাম। এখন এই কাজটিই যদি আপনি নানারকম এনিমেশন, ছবি, লেখা ইত্যাদি দিয়ে ভিডিওতে তুলে ধরেন, তাহলে কেন মানুষ দেখবেনা? মানুষ যখন মজা পাবে, তখন ইউটিউব কেন আপনাকে আটকাবে? কিন্তু আপনার তৈরী করা ভিডিও যদি মানুষকে ধরে না রাখতে পারে তাহলে কিন্তু কেস ডিসমিস। স্লাইড ভিডিও করেছিলেন বলে চ্যানেল গেল, এইসব বলে তখন লাভ হবেনা। এরপরে যতই চ্যানেল খুলে কাজ করেন না কেন, আপনার ভিতরের ফাকাস্থান কিন্তু ফাকাই থেকে যাবে।

আরেকটা বিপরীত উদাহরন দেইঃ মনে করুন অনেকে সার্চ করছে “How to make slime” (একটা হাই ভিউ নিশ বের হয়ে গেল থলে থেকে, হা হা হা)। এই অডিয়েন্স কিন্তু ভিডিও দেখতে চাচ্ছে। সে চায় কেউ তাকে হাতে কলমে স্লাইম বানানো শিখিয়ে দিক। এই অডিয়েন্সকে আপনি কিন্তু কম্পিউটারে বানানো ভিডিও দিয়ে খুব একটা স্যাটিসফাই করতে পারবেননা। এই বিষয়ে আপনি ইমেজ দিয়ে ভিডিও বানায়ে শর্টকাট এপ্রোচ নিতে চাইলে কিন্তু আর টিকতে পারবেননা, আপনার কাজ হয়ে যাবে লো কোয়ালিটির কাজ। আবার এটাও ভাববেননা যে ক্যামেরা দিয়ে একটা ছাতা মাথা ভিডিও করে দিয়ে দিলাম আর ব্যস পুরাই হিট খেয়ে গেলাম। না এমনটাও হবেনা। আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে How to make engaging videos. একটা হাই কোয়ালিটি ভিডিও বানানোর সবরকম কনসেপ্ট জানা থাকতে হবে। ক্যামেরা ধরেন আর কম্পিউটার ধরেন, ভাল ভিডিও তৈরীর জন্য দরকার খুব ভাল রিসার্চ এবং প্ল্যান।

 

Voice-over-এ গুরুত্ব দিন

এমন অনেকেই আছেন যারা ইতোমধ্যে হতাশ হয়ে পড়ছেন যে তারা কিভাবে ক্যামেরা দিয়ে কাজ শুরু করবেন। তাদের প্রতি আমার স্পেশ্যাল পরামর্শঃ সফটওয়্যারের কাজ খুব ভালভাবে শিখুন এবং সাথে ভয়েসওভারের দিকে মনোযোগী হোন। এমন অনেক নিশ আছে যেখানে মানুষ একই বিষয়ে একাধিক ভিডিও দেখে, যেমনঃ how to rank videos in youtube. কেন দেখে? এই বিষয়ে কিন্তু ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করার তেমন কিছু নেই (হ্যা আপনি চাইলে নিজেই ক্যামেরার সামনে এসে কথা বলে শ্যুট করতে পারেন, কিন্তু সেটা মেনডেটরি না)। আসলে অডিয়েন্স এখানে কি দেখতে চায়? নাহ, তারা কিছু দেখতে চায়না, তারা আসলে জানতে চায়, শুনতে চায়! তারা একাধিক মানুষের কাছে শুনতে চায় কে কিভাবে ভিডিও র‍্যাংক করায়। এখানে Youtube video ranking একটা উদাহরনস্বরুপ নিশ দেওয়া হল। এরকম সিমিলার আরো নিশ বা বিষয় আছে। এইসব বিষয়ে আপনি আপনার নিজের কথা অন্যদের জানিয়ে দিন, নিজের ভাষায় ভাল একটা স্ক্রিপ্ট লিখে সেটার ভয়েসওভার করুন। এর সাথে যদি স্ক্রীনে সিম্পল একটা কাস্টম ইমেজ দিয়েও রাখেন তাও মানুষ মনোযোগ দিয়ে ভিডিও দেখবে, শুনবে। সুতরাং, যাদের ক্যামেরা সেটাপ করে কাজ করা নিয়ে ভয় আছে তাদের জন্য ভয়েসওভার হতে পারে ইউনিক স্ট্রেংথ। সাথে সফটওয়্যারের কাজ শিখুন ভাল করে। ক্যামটেসিয়া দিয়েই আপনি অসাধারন টেক্সট, ইমেজ, গ্রাফিক্স এনিমেশন করে দেখাতে পারবেন, আমি এরকম কাজ জাফিডিজিটালের ভিডিও মার্কেটিং কোর্সে সবসময় দেখিয়ে এসেছি। দরকার শুধু আপনার প্যাশন।

 

ইমেজ, ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গ এবং ভবিষ্যত

দেখুন, ব্যাপারটা পরিষ্কার। ইন্টারনেট দুনিয়ায় মানুষ যা জানতে চায়, দেখতে চায় – আপনি যদি তাকে সেটাই দিতে পারেন, তাহলে আপনিই রাজা। আপনার নিশ, কনটেন্টের ডিমান্ড কি বুঝুন। আপনার নিশে যদি ক্যামেরা নিয়ে কাজ করার দরকার হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেটা নিয়ে নামতে হবে, তানাহলে আপনি কোয়ালিটি মেইন্টেইন করে ভ্যালু দিতে পারবেননা। আবার অনেক নিশ আছে যেখানে আপনি একটু ক্রিয়েটিভ ভাবে চিন্তা করতে পারলেই অনেক হাই ভ্যালু কম্পিউটার জেনারেটেড (যেমন- Whiteboard animation, Explainer animation, simple animated presentation, screen recording, dynamic image-footage-text presentation etc) কনটেন্ট দিয়েই আপনি মানুষের মন জয় করে নিতে পারেন।

ইমেজ এবং ফুটেজ কালেকশনের ব্যাপারে বলব- লাইসেন্সিং কনসেপ্টগুলো বুঝুন ভাল করে, তাহলে অবশ্যই ‘সত্যিকারভাবেই ফ্রী” ইমেজ খুজে বের করতে আপনার কষ্ট হবেনা। এছাড়াও প্রিমিয়াম ভিডিও ফুটেজ এবং ছবির জন্য অনেক ভাল সাইট আছে। খরচ তুলনামূলক অনেক কম, এমন সাইটও আছে। এগুলো থেকে ভিডিও ফুটেজ বা ইমেজ নেওয়া ১০০% সেফ। ইউটিউব আপনাকে কিছু বললেও আপনি ডকুমেন্ট দেখাতে পারবেন যে এগুলো আপনার প্রোপার্টি।

এছাড়াও GIF Format-র এনিমেটেড ইমেজ এখন অনেক জনপ্রিয়। এগুলোর কপিরাইট নিয়ে এখনো কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমাল নেই। বরং GIF ইমেজকে কপিরাইট ফ্রীই বলা হচ্ছে, কারন এগুলোর ধরন Fair Use-এর মধ্যে পড়ছে। এগুলোকেও ব্যবহার করতে পারেন আপনাদের ভিডিওতে। তবে সব ক্ষেত্রেই সোর্স সাইটের লাইসেন্সিং সেকশন পড়ে নিতে হবে।

সুতরাং শুরুতে যদি আপনার ইনভেস্টমেন্ট বা রিসোর্স না থাকে, তাহলে আপনি আপনার জন্য সঠিক নিশ সিলেক্ট করুন। অমুক ভাই ওই নিশ নিয়ে ১০ লাখ ভিউ পেয়েছে বলে ওইটাই আপনাকে করতে হবে, এমন কোন কথা নেই। আপনি আপনার জন্য বেস্ট নিশ নিন, তাহলে আপনি ভিউয়ারকে বেস্ট কিছু দিতে পারবেন – আর নতুন সময়ে সেটাই বেশি ইম্পরট্যান্ট। শুরু করুন এমন কিছু নিয়ে যেটা দিয়ে আপনি ভাল একটা আর্নিং আনতে পারবেন, এরপর আস্তে আস্তে ইনভেস্ট করে আরো বড়ো কিছুতে যেতে পারবেন। শুরুতেই এমন কিছুর জন্য ঝাপিয়ে পড়বেননা যেটা ভালভাবে করতে আপনার অনেক ইনভেস্টমেন্টের দরকার পড়বে।

 

পরিশেষে

আরো অনেক কিছু লেখার ছিল, সময় করে লিখব একদিন। তাছাড়া আপনারা সবসময় কানেক্টেড থেকে ইউটিউব নিয়ে নতুন নতুন আপডেট, রিসোর্স পেতে পারেন আমাদের গ্রুপঃ বাংলাদেশ ভিডিও মার্কেটারসে

আজকের লেখাটা শেষ করব একটাই আহবান দিয়ে “আপনার অডিয়েন্সকে বুঝুন, ইউটিউবকে বুঝুন, রিসার্চ করুন, অ্যাকশন নিন – বাকিটা ইতিহাস হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ”। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য। আপনাদের কমেন্ট জানাবেন, অবশ্যই শেয়ার করবেন আর্টিকেলটি – আপনার শেয়ারের কারনে আপনার প্রতিযোগী বাড়বেনা বরং ইউটিউব মার্কেটিং-এ আপনাকে সাহায্য করার সহযোদ্ধা বাড়বে। সবার প্রতি শুভ কামনা। আসসালামু আলাইকুম।

 

13 comments on “স্লাইড ভিডিওর দিন কি তাহলে শেষ? ভিডিও মার্কেটিং ২০১৭

Reply

ধন্যবাদ ভাই, অনেক বড় confution থেকে মুক্তি পেয়ে বিষয়টা Clear হলাম।

Reply

অনেক ভাল লাগলো ভাইয়া। আপনার প্রতিটা কথা অনেক মূল্যবান। এখানে যা বলে দিয়েছেন এটা দিয়েই কাজ শুরু করা যায়। আসলে ভাইয়া ভয় না করে কাজ শুরু করলেই হোঁচট খেয়ে অনেক কিছুই শেখা যায় আর পাশে যদি আপনার মত বড় ভাই থাকে তাহলে তো নো টেনশন। জাফি ডিজিটালে ভর্তি হওয়ার পর এবং ক্লাস শুরুর আগে ভেবে ছিলাম হয়তো অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মত এখানেও হাতে ভিডিও রেকর্ডিং সিডি হাতে ধরিয়ে দিবে। আর টাকা পুরোটাই জলে। কিন্তু ক্লাস শুরু হবার পর আমার ভুল ভাঙ্গে। আপনি ক্লাসে যেভাবে বুঝিয়েছেন এতে আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আজ আপনার ক্লাস করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ধন্যবাদ জাফি ভাইজান আপনাকে এমন একটা প্রতিষ্ঠান করার জন্য। আপনার ক্লাসের আমি এতই ভক্ত হয়ে পরেছি যে, যেদিন আপনি বললেন আপনাদের আর ৫/৬ টা ক্লাস বাকী আছে সেইদিন থেকে আমার মনটা ভাল নেই। আপনার ক্লাস অনেক মিস করবো ভাইয়া। এত সুন্দর ও সাবলীলভাবে আপনি বুঝিয়ে দেন যে মনে রাখা সহজ হয়। বার বার জিজ্ঞেস করার পরও কখনও দেখেনি আপনার চেহারায় বিরক্তিকর ছাপ। ভাইয়া দোয়া করবেন যেন সফল হতে পারি। আপনি যা দিয়েছেন এতে যদি সফল না হই তাহলে ভেবে নিতে হবে আমার তাকদীর বা ভাগ্য খারাপ ও আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। আল্লহর কাছে দোয়া করি আল্লহ যেন আপনাকে সব সময় সুস্থ রাখেন। আর জাফি ভাইজান আপনাকে স্যালুট……।।

Reply

অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই!
পুরো ব্যাপারটা পরিস্কার করে বোঝানোর জন্য!

Reply

ভাইয়া আপনার কথা গুলা এত ভাল লাগছে যা লিখে বুজানো সম্বভ না।

আল্লহর কাছে দোয়া করি আল্লহ যেন আপনাকে সব সময় সুস্থ রাখেন। আর জাফি ভাইজান আপনাকে স্যালুট……!!!

Reply

নাফি ভাইয়া কি বলবো ভাষা খুজে পাচ্ছিনা। ঘুরেফিরে একটি কথা আবারো বলি “ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে” সত্যিই আপনার তুলনা শুধুই আপনি। এত সুন্দর আর বিস্তর ভাবে বুঝানোর মত আপনার পাশে দ্বিতীয় কাউকে দাড় করানো অসম্ভব। যাইহোক পরবর্তী পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম ????।

ধন্যবাদ

Reply

Asthir akta post bro,onek confusion clear hoilo.but bro aamr akta question silo.suppose ami sports niche ta choose korlam.football.akon ami football niya video banabo kmne?like top 10 freekick,top 10 backhills goal like this,ai typeer video banabo kmne?ar doren kono chaneel e ba youtube e live streming e khela dekaitese,ami amar camera ba mobie diya oi khelata video kore edit kore kaj korle seta ki copy right er under e porbe?plz bro apnar answer ta dibn..but again thanks for you post.

Reply

অনেক সহজে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন কিছু বিষয় জানলাম। ধন্যবাদ ভাই।

Reply

লেখাটা অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল। আমারও এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন ছিল যার উত্তর এখানে পেয়ে গেলাম। অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *