Teespring- A-Z

টি-শার্ট মার্কেটিং কি এবং কিভাবে?

আলহামদুলিল্লাহ, ২০১৫ সালের মার্চ থেকেই শুরু হয়েছিলো Zafar Hossain Zafi হাত ধরে বাংলাদেশে টি-শার্ট মার্কেটিং এর নতুন যাত্রা। আমেরিকান সনামধন্য টি-শার্ট কোম্পানী Teespring বাংলাদেশে প্রথম পদার্পন করেন। সেই থেকেই শুরু এবং আজ অবধি টিস্প্রীং এ কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের হাজার হাজার অনলাইন মার্কেটার। দিন যতই যাচ্ছে টি-শার্ট মার্কেটিং এ প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে দেশের হাজার হাজার নতুনরা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাদের কাজ করার  আগ্রহ। এতে করে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অনেক প্রশ্নও আসছে আমাদের কমিউনিটিতে। প্রথমেই যে সমস্যাটি হয়, সেটি হচ্ছে নতুনরা এসেই এই বিজনেস এর শুরু আর শেষ খুজে পায় না। অনেকেই আছে পরিশ্রম আর যথেষ্ঠ রিসার্স দিয়ে খুজে নিতে পারে বিজনেস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উপাত্ত। Zafidigital.com দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে কিভাবে আরো সহজে নতুনদের কাছে এই বিজনেস মডেলটি পৌছে দেওয়া যায়। সেই প্রত্যয়েই আমাদের পথ চলা আর আজকের এই পোস্টটি।

Teespring বিজনেস মডেল- নদীর এপার থেকে ওপার

নতুনদের সবচেয়ে কমন যে প্রবলেমটি হয়ে থাকে তার প্রথম বিষয়টিই হচ্ছে  এই বিজনেস মডেল সম্পর্কে প্রপার ধরনা না নেওয়া। অনেকেই বুঝে উঠতে পারে না তাকে কখন কিভাবে কি করতে হবে। আর এতেই শুরু হয় নানান বিপত্তি। আজ সেখান থেকেই কিছু লিখার চেষ্টা করছি মাত্র। এখানে সম্পূর্ন Teespring বিজনেস এর মডেলটি আমি আমার মত করে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই বিজনেস মডেল নিয়ে আপনার আর কোন সমস্যা থাকবে না ইনশাআল্লাহ:

বেশ কিছুদিন যাবত নতুনদের অনেক মেসেজ আমার কাছে আসছে এবং তখনই বুঝলাম নতুন করে কিছু লিখতে হবে এই বিজনেস সম্পর্কে । যারা এই বিজনেস এর সাথে কাজ করার আগ্রহ নিয়ে আমাদের অফিসিয়াল Teespring BD গ্রুপে জয়েন করেছেন, আপনাদের সবার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

শুরুতেই আমি চলে যাবো অনলাইন থেকে অফলাইন বিজনেস সম্পর্কে। আমি আগেই বলেছি এটি আপনার নিজের একটি বিজনেস। এখানে আপনাকেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি কি করবেন আর কি কি করবেন না। কি করলে আপনার বিজনেসের জন্য মঙ্গল হবে আর কি করলে আপনার বিজনেস এর জন্য খারাপ হবে।
যেহেতু এটি বিজনেস, যদি আপনি এই বিজনেস অফলাইনে করতে চান তাহলে প্রথমেই আপনাকে যে জিনিসটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে তা হলো, আপনি কিষের বিজনেস করবেন? আর যখন প্রশ্ন হবে আপনি টি-শার্ট, মগ, বালিশ, ক্যানভাস ইত্যাদির বিজনেস  করবেন, তাহলে প্রথমেই আপনাকে খোজ নিতে হবে প্রিন্টিং  এর খরচ কেমন হবে। কি ধরনের মেশিনারিজ আপনাকে কিনতে হবে উপরেউল্লেখিত প্রোডাক্ট প্রিন্ট করার জন্য।
তারপর আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনার ফ্যাক্টিরি কোথায় দিবেন? তার ভাড়া কত হবে? এডভান্স কত হবে? সাধারনত এই বিষয়গুলোই হচ্ছে এই ব্যবসায় এর বড় অংশ যাতে প্রচুর পরিমানে ইনভেস্টমেন্ট এর প্রয়োজন পরে। যদিও এখন এমন অনেক প্রিন্টিং হাউজ আছে যারা শুধুমাত্র প্রিন্টিং এর কাজ করে থাকে, এতে করে নতুন করে কেউ বিজনেস শুরু করতে গেলে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না এই বিষয়গুলো নিয়ে।
এরপর যখন আপনি সব কিছুর ব্যবস্থা করে ফেললেন, তারপর আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনি যে প্রোডাক্ট গুলো প্রিন্ট করবেন সেই প্রোডাক্টগুলো আপনি কোথা থেকে কিনবেন? কাদের কাছে গেলে পাবেন? পাইকারি রেট কেমন হবে ? ইত্যাদি বিষয় গুলো। আর যখন আপনি সমাধান বের করে ফেললেন তারপর আপনাকে এবার খুজে বেড়াতে হবে দক্ষ একজন ডিজাইনার যে কিনা আপনার প্রোডাক্ট ব্র্যান্ড এর জন্য বিশ্বমানের ডিজাইন করবে।

বিজনেস করার জন্য একটি বড় অংশ আপনি কিন্তু এখন যোগার করে ফেলেছেন।

এবার আপনাকে চিন্তা করতে হবে মার্কেটিং নিয়ে। যেটা একটি বিজনেস এর জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেটি ছাড়া আপনার বিজনেস অচল। তো যখনই মার্কেটিং এর কথা আসলো, সাথে সাথে যুক্ত হয়ে গেলো এই যে আপনি প্রোডাক্টগুলো তৈরি করছেন , আসলে এই ডিজাইন গুলো কারা কিনবে? তারা কোথায় থাকে? তাদের আপনি কিভাবে খুজে পাবেন? তারা কি কি পছন্দ করে? তাদের জন্য কি ধরনের ডিজাইন করলে তারা আপনার প্রোডাক্টটি কেনো কিনবে ইত্যাদি আরো অনেক খুটি নাটি বিষয় আছে যা আপনি বিজনেস করতে গেলেই আপনাকে সম্মুখীন হতে হবে।

যখন আপনি খুজে পাবেন আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার কারা? তারা কোথায় থাকে? তাদের পছন্দ কি? এবার আপনাকে খুজে নিতে হবে একটি ভালো মার্কেট যেখানে আপনি একটি শোরুম নিবেন, যেখানে আপনি লক্ষ টাকার ডেকোরেশন করবেন এবং সেখানে আপনার বড় একটি খরচও অপেক্ষা করছে। সাথে মার্কেটিং এর খরচ বাবদ দোকানের সাইনবোর্ড, ব্যানার, কার্ড, মডেল এর খরচ সহ আরো অনেক অনেক খরচ।

এই ঝামেলাও ধরে নিলাম আপনি মাথায় নিয়ে সামলে নিলেন, তারপর শুরু হবে কাস্টমার সাপোর্ট এর বিষয়। একটি বিজনেসকে সফলভাবে রুপ দিতে গেলে কাস্টমার সেটিসফেকশন এর বিষয়ে আপনাকে খুব বেশি পরিমানে সজাগ থাকতে হবে। আপনার বিজনেস সম্পর্কে একটি খারাপ রিভিউ আপনার  বিজনেসের বারোটা বাজাতে সক্ষম যদি আপনি সঠিক ভাবে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্ট তৈরি করতে না পারেন।

উপরের লিখাটিতে আমি চেষ্টা করেছি একটি নতুন বিজনেস করতে গেলে আপনাকে যে যে বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিজনেস করতে হবে পাশাপাশি একটি  বিজনেস কিভাবে সংগঠিত হয়। তো আমার মুল বিষয়টাই হচ্ছে কিভাবে সংগঠিত হয় তাতে আপনাদের ধারনা দেওয়া। যদি আপনি বুঝে থাকেন যে আসলে একটি বিজনেস কি কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে শুরু হয়, তাহলে এবার আপনাকে আমি নিয়ে যাবো অনলাইনে টি-শার্ট মার্কেটিং বা Teespring নিয়ে কিভাবে আপনি কাজ করতে পারেন তার বিশদ আলোচনা দিতে। আশা করছি আপনি এখন সহজেই বুঝতে পারবেন।

উপরের লিখাতে আমি যেভাবে একটি অফলাইন ক্লথিং/প্রোডাক্ট বিজনেসের কথা বর্ননা করেছি, ঠিক একই ভাবে আপনাকে অনলাইনে বিজনেসটি করতে হবে। কিন্তু পার্থক্য একটাই, অফলাইন বিজনেসে আপনাকে যেভাবে করে এত এত ঝামেলা, এত এত ইনভেস্টমেন্ট এর কথা চিন্তা করতে হচ্ছে, এখানে এসে তা করতে হচ্ছে না। কারন আপনার বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট এর জায়গা গুলোকে সহজ করে দিচ্ছে Teespring নিজেই। প্রিন্টিং, প্রোডাক্ট নির্বাচন, কাস্টমার ডেলিভারি, কোয়ালিটি মেনটেইন এর মত বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট আর ঝামেলার কাজগুলোই সম্পন্ন করে দিচ্ছে Teespring নিজেই। সাথে অফলাইন বিজনেস এর তুলনায় প্রফিট ও গুনতে পারবেন ১০ গুন বেশি। এখন যেহেতু টিস্প্রীং নিজেই এই কাজ গুলো করে দিচ্ছে তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? প্রশ্ন জাগতেই পারে আপনার মনে। তাই নিচের লিখা গুলো পড়ে ফেলুন ঝটপট।

এই বিজনেস সম্পূর্ণ দুটি পক্ষের উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়

এক পক্ষ : আপনি নিজেই

প্রশ্ন: আপনার কাজ কি???
১. আপনার কাজ ডিজাইন করা
২. আপনার নিজের করা ডিজাইনের মার্কেটিং করা।

অন্য পক্ষ : টিস্প্রীং (Teespring)

প্রশ্ন: টিস্প্রীং এর কাজ কি??
১. আপনার মার্কেটিং করা ডিজাইনের কাষ্টমারদের উপর ভিত্তি করে প্রোডাক্ট প্রিন্ট করা।
২. আপনার করা ডিজাইনের প্রোডাক্টটি কাস্টমারের কাছে পৌছে দেয়া।

আশা করছি এখন আরো বুঝে গিয়েছেন এই বিজনেস আপনাকে কিভাবে করতে হবে। যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে আপনাকে উপরের লিখাগুলোকে আবার একটু বুঝে শুনে পড়ে আসার অনুরোধ রইলো।  🙂

এবার আমি আরেকটু বর্ননা দিবো আপনাদের যে দুটি কাজ করতে হবে তা নিয়ে:

আপনাকে যা জানতে হবে, তা হল:

১. Teespring সম্পর্কে সম্মক ধারনা নেওয়া। জানতে হলে ক্লিক করুন এখানে
২. ডিজাইন কাকে বলে??
৩. প্রোডাক্ট ডিজাইন কিভাবে করতে হয়??
৪. কি ধরনের ডিজাইন করতে হবে??
৫. কারা আপনার ডিজাইনটি (প্রোডাক্ট) কিনবে তাদের সম্পর্কে জানা।
৬. মার্কেটিং কাকে বলে??
৭. ফেসবুক এর সাধারন ব্যবহার
৮. ফেসবুক মার্কেটিং কাকে বলে এবং কিভাবে করতে হয়?? (সাধারন জ্ঞান- প্রাথমিক অবস্থায়)
৯. একটি অনলাইন পেইমেন্ট সার্ভিস (পেইড মার্কেটিং এর জন্য- Payoneer)
১০. যদি সামর্থ থাকে তাহলে নুন্যতম 500 ডলার ইনভেস্টমেন্ট (যদিও এটি দিয়ে আপনি সফল হবেন কি না সেটা নির্ভর করবে আপনার কাজ আর ডেডিকেশন  এর উপর

উপরের ১০ টি পয়েন্ট এর উপর সম্মক ধারনা নেওয়ার জন্য আছে আমাদের অফিসিয়াল টিস্প্রীং গ্রুপ। জয়েন করুন এখান থেকে

সাথে সম্পূর্ণ এডভান্স লেভেল এর কোর্স আছে আমাদের Zafidigital.com এ।

শুরু করার আগে আমার করা ১০ টি পয়েন্ট এর সকল বিষয় এই উপর একদম ১ম স্তরের জ্ঞান নিয়ে কাজ শুরু করবেন। না জানলে আমাদের গ্রুপ আছে, গ্রপে অনেক অভিজ্ঞ মার্কেটার আছেন যাদের কাছে আপনি অনায়াসে হেল্প পাবেন । আগে শুধু আমার উল্লেখ্য করা ১০ টি পয়েন্ট এর উপর জোর দিন। বাকি গোল্ড মাইন গুলো আপনি প্রতিটি স্টেপে নিজেই খুজে পাবেন। তাছাড়া দেশ সেরা এডভান্স কোর্স  তো পাচ্ছেনই Zafidigital.com এ।

আর হ্যা , একটি কথা, কাজ করতে করতে হতাশ হবেন না। চালিয়ে যান, কারন শেখার কোন শেষ নাই। অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এক সময় আপনি সফল হবেন। হবেনই হবেন। সহজ মনে করে শুরু না করে কঠিন মনে করে শুরু করুন এবং সহজ করে নিন। এই বিজনেসে এমনও দেখেছি $16000 লস দিয়ে সফলতার মুখ দেখেনি। আবার এমনো দেখেছি 0 থেকেও সফল হয়েছেন। সো Never Give Up.

শেষকথা: উপরের সবগুলো কাজ করার আগে প্রথম ভরসা রাখুন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর উপর। কাজ শুরু করুন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর উপর ভরসা রেখে। কাজের জন্য আল্লাহকে ছেড়ে দিবেন না। আগে আল্লাহ, তারপর সবকিছু। দেখবেন আল্লাহই আপনাকে পথ দেখাবে ইনশাআল্লাহ

আল্লাহ হাফেজ, ভালো থাকবেন সবাই।
আপনাদের জানার অনুভতিগুলো জানিয়ে আমাদের পোস্টে কমেন্ট করুন। ইনশআল্লাহ লিখার চেষ্টা করবো নিয়মিত।

13 comments on “Teespring- A-Z

Reply

আসসালামু আলাইকুম। এমনিতেই আপনার কথাগুলো ভালো লাগে। আজ লেখাও ভালো লাগলো। খুব সুন্দর লেখেছেন ভাইয়া। খুবই সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *