টি-শার্ট ডিজাইন- নিজেই করুন সেরাদের সেরা ডিজাইন

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নতদেশগুলোতে ইন্টারনেট মার্কেটিং যেমন অনেক বেশি ছড়িয়ে পরেছে, ঠিক তেমনই ইন্টারনেট মার্কেটিং এরই একটি অংশ টি-শার্ট মার্কেটিং, যা দিন দিন ব্যাপ্তি ছড়াচ্ছে অনেক বেশি। উন্নত বিশ্ব ছাড়িয়ে এই স্মার্ট বিজনেস এখন বাংলাদেশেও অনেক বেশি সফলতা ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে Zafar Hossain Zafi সর্বপ্রথম আমেরিকান সনামধন্য কাস্টম টি-শার্ট প্রতিষ্ঠান Teespring কে সাথে নিয়ে এই বিজনেসকে বাংলাদেশে পরিচিতি করান। পরিচিতি লাভ করানোর পর থেকেই এই বিজনেস দেশের তরুনদের কাছে সফলতার অন্যরকম একটি সপ্ন হিসেবে ধরা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ নতুনরাই এই বিজনেসের মুল বিষয়গুলোতে তাদের দক্ষতা গড়ে তুলতে পারছে না। এই মার্কেটিং সিস্টেমে যে যে বিষয়গুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন সেসব বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো টি-শার্ট ডিজাইন করা। যেখানে আমাদের দেখা এখনো অনেকেই ভালো ডিজাইন করতে পারছে না।

আজকে লিখবো একটি ভালো টি-শার্ট ডিজাইন করার জন্য কোন কোন বিষয়গুলোর উপর আপনাকে ফোকাস রাখতে হবে। সাথে কিভাবে ডিজাইন করলে আপনি একটি সফলতম ডিজাইন পেয়ে যেতে পারেন সহজেই, সে বিষয় নিয়েই লিখেছি এই পোস্টে।

জানতে হবে আপনার বায়ারের রুচিবোধ সম্পর্কে

আমরা সব সময় প্রথমেই যে ভুলটি করে থাকি সেটি হচ্ছে আমরা আমাদের বায়ার সম্পর্কে সঠিক না জেনেই, রিসার্স না করেই ডিজাইন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠি। আসলেই কি এমন করে ডিজাইন করলে হবে? আপনার ধারনা যদি এমনই হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সম্পূর্ন ভুল।
একটু অন্য দিকে নিয়ে যাই আপনাদের….
আচ্ছা আপনি নিজেই যখন নিজের জন্য একটি কাপড় কিনতে যান, তখন নিজেই কিন্তু ১০ টা শার্ট  দেখে ১টা অথবা ২টা শার্ট কিনেন। তাই নয় কি? কেন ১০ টা দেখে ১ট কিনেন? কারন আপনার সবগুলো পছন্দ হয় নি। হবে না এটাই সাভাবিক। কারন সবার ‍রুচিবোধ একই রকম না। ঠিক যে শার্টগুলো আপনি রিজেক্ট করে দিয়ে এসেছেন, সেই শার্টগুলোই অন্য কেউ কিনে নিয়ে গেছে। কারন সেই শার্টগুলো তার রুচিবোধের সাথেই যায়। যদি মানুষের রুচিবোধ বলতে কোন কিছু নাই থাকতো, তাহলে চিন্তা করে দেখুন তো Fashion Design নামক একটি Subject কেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে? যুক্ত হয়েছে এ কারনেই যাতে করে প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা রুচিশীল ব্যাক্তির জন্য যেন সঠিক পোশাকের যোগান দিতে পারে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন তো, আপনি  Teespring এর ডিজাইন করার সময় আপনার বায়ারের রুচি বোধ নিয়ে চিন্তা করেছেন কি না?

এবার চিন্তা করতে করতে নিচের দিকে পড়ুন, আপনার চিন্তাকে পানির মত করে সহজ করে দিয়ে টি-শার্ট ডিজাইনকে আরো সহজ করে দেই।

টি-শার্ট ডিজাইনের জন্য অবশ্যই জানা আবশ্যক

টি-শার্ট  ডিজাইন করার জন্য আমাদের বেসিক কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। এই পোস্টটি পড়ছেন যারা তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আছেন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার, আছেন Adobe Photoshop এবং Adobe Illustrator এক্সপার্ট। যারা ডিজাইনার আছেন তাদের জন্য এই লাইনটি মোটেও জরুরী না। তবে একদম যারা নতুন করে এই সেক্টরে কাজ করতে আসছেন, তাদের জন্য অবশ্যই Adobe Photoshop অথবা Adobe Illustrator জানা খুবই দরকার। স্পেশালি যদি বলি তাহলে Adobe Illustrator জানা অবশ্যই দরকার। কারন যেহেতু আমরা কাজ করবা POD (Print On Demand) নিয়ে, তাহলে Adobe Illustrator হচ্ছে যেকোন প্রিন্টিং কাজের জন্য পারফেক্ট সফট্ওয়্যার।

Niche Audience সম্পর্কে ধারনা রাখা

Niche Audience সম্পর্কে খুব কম লোকই আছি আমরা, যারা ধারনা রাখি। বেশিরভাগই Niche সম্পর্কে কোন কিছু জানা না থাকা সত্বেও যেমন তেমন ডিজাইন করে মার্কেটিং করা শুরু করি। আপনার অবশ্যই  Niche সম্পর্কে সম্পূর্ন ধারনা থাকতে হবে। ধরনা থাকতে হবে তারা কেমন স্বভাবের হয়ে থাকে সে বিষয়ে। তারা কি ধরনের ডিজাইন পছন্দ করে সেটি। আপনার Niche এর লোকদের জন্য কি ধরনের মেসেজ আপনি তৈরি করেছেন, সেটা কি Love প্রকাশ করছে, নাকি Pride প্রকাশ করছে, নাকি সেখানে Emotional কিছু আছে সে বিষয়গুলোও জানতে হবে অবশ্যই। আপনার Niche এর অডিয়েন্সের এই তথ্যগুলোই কিন্তু আপনাকে একটি ভালো টি-শার্ট ডিজাইন করতে সাহায্য করবে।

 

টি-শার্ট ডিজাইনের প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু

একটি কোয়ালিটি সম্পন্ন টি-শার্ট ডিজাইন করতে হলে কিছু জিনিসের উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। নিচে এমন কিছু বিষয় নিয়েই বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করেছি। টি-শার্ট ডিজাইনের উপর আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন আমাদের Zafidigital.com এর সদ্য চালু করা Exclusive T-shirt Design Skill Development Courseকোয়ালিটি সম্পন্ন একটি টি-শার্ট ডিজাইন করতে হলে যে যে বিষয়গুলোর উপর অবশ্যই আপনার গুরুত্ব দিতে হবে

সঠিক Font বাছাই করা:

উপরে আগেই লিখেছিলাম যে একটি মান সম্মত টি-শার্ট ডিজাইন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার Niche সম্পর্কে খুব ভালো আইডিয়া রাখতে হবে। সাথে সাথে আপনি কি ধরনের মেসেজ দিয়ে ডিজাইন করছেন সেটাও মাথায় রাখতে হবে। এক এক রকম Font এক এক রকমের অনুভুতি প্রকাশ করে। ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলের ফন্ট আপনার ডিজাইনের ভিন্ন ভিন্ন মিনিং প্রকাশ করবে। আপনার ডিজাইনটি যদি হয় নার্স নিশের এবং মেসেজটি যদি হয়ে থাকে ইমোশনাল, তবে অবশ্যই আপনাকে এমন Font ই ব্যবহার করতে হবে যা দিয়ে ইমোশোনাল কিছু বুঝানো হয়। দেখলেই জেনো ইমোশনাল লাগে ডিজাইনটি। যদি ইমোশোনাল মেসেজের মধ্যে আপনি কোন একটি হার্ড বা বোল্ড কোন ফন্ট ব্যবহার করেন, অথবা গ্রাঞ্জি কোন ইফেক্ট ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা ততটা মানানসই হবে না। তখন ক্রেতারা আপনার ডিজাইনটি কেনার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলবে।

সঠিক Artwork বাছাই করা:

সদ্য শুরু করেছেন অথবা অনেক পুরাতন হয়ে গিয়েছেন এমন অনেক মার্কেটার আছে যাদের আরো একটি বড় সমস্যা হলো,  সঠিক মেসেজ এর জন্য সঠিক আর্টওয়ার্ক সিলেক্ট করা। আমরা এই বিষয়ে তেমন একটা জ্ঞান রাখি না বা রাখলেও স্কিল না থাকার কারনে সেগুলোকে ব্যবহার করতে চাইলেও পারি না। তাই বেশিরভাগই দেখা যায় টেক্সট বেইজ ডিজাইন করে সেল করার চেষ্টা করে বেশিরভাগই। কিন্তু আসলেই কি টেক্সট বেইজ ডিজাইন ভালো সেল হয়? উত্তরে যদিও হয় বলাটাই স্বাভাবিক, তবে তেমন যে বেশি হয়ে থাকে তা কিন্তু মোটেও সত্যি নয়। আপনার মেসেজ এর সাথে যদি ভালো এবং মানানসয়ী একটি আর্টওয়ার্ক যুক্ত করতে পারেন, তাহলে সেই ডিজাইনটি যে আপনাকে কতটা কনভার্সন এনে দিতে পারে তা আপনার কল্পনার বাইরে। তাই আজ থেকে প্র্যাকটিজ করুন ডিজাইনের সাথে ভালো আর্টওয়াক যুক্ত করতে।

লিখা পরিস্কার দেখা যাওয়া :

আমরা বেশিরভাগ সময় ভালো ডিজাইন করলেও দেখা যায় আমাদের ডিজাইন দুর থেকে দেখলে ডিজাইনের টেক্সটগুলো ভালো করে পড়া যায় না। এমনও হয় যে মেসেজ ভালো, সেল হবার মত ডিজাইন কিন্তু মানুষ ঠিকমত পড়তে না পারার কারনে, বা মেসেজটি তার চোখে না পরার কারনেই সে আপনার ডিজাইনটিকে এড়িয়ে চলে গিয়েছে। এতে করে আপনার ডিজাইনটি সম্ভাবনা থাকা সত্বেও ডিজাইনটি আর সেল হলো না। সব সময় মাথা রাখা দরকার আপনার পছ্ন্দকৃত মেসেজের যে যে ওয়ার্ডগুলোতে আপনার অডিয়েন্স বেশি আকৃষ্ট হবে সেই ওয়ার্ডগুলোকে যেন ডিজাইনে ফোকাস করা হয়। সাথে পরিস্কার ফন্ট ব্যবহার করা  আপনার ডিজাইনের লিখাকে আরো পরিস্কার দেখাতে সাহায্য করবে।

গুছিয়ে ডিজাইন করা:

আপনার ডিজাইনের সব কিছুই ঠিক আছে, কিন্তু গুছানো নেই কোন কিছুই। তাহলে কিন্তু ডিজাইনের মান আর ঠিক থাকলো না। খেয়াল রাখতে হবে যেন ডিজাইনের গঠন দেখতে সুন্দর হয়। লিখার এ্যালাইনমেন্ট, আর্টওয়ার্কের প্লেসমেন্ট, ফন্টের মধ্যে ফাকা অংশগুলো যেন সঠিক মাপে থাকে সেদিকে ভালো ভাবে খেয়াল রাখতে হবে এবং এই বিষয়গুলোতে যত্নবান হতে হবে।

সঠিক কালার নির্বাচন করা:

প্রতিটি নিশের আছে আলাদ আলাদা কিছু কালার কোড। গুগলে সার্স করলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত নিশের কালার প্যালেট। সাথে দেখতে হবে আপনার মেসেজটি/ডিজাইনটি কাদের টার্গেট করে করা হয়েছে। যদি দেখেন এটা মেয়েদের জন্য তাহলে চেস্টা করবেন মেয়েরা পছন্দ করে এমন কালার ব্যবহার করার। যদি ছেলে হয়ে থাকে তাহলে চেষ্টা করবেন ছেলেরা যেসব কালার পছন্দ করে তেমন কালার ব্যবহার করা। আর সাথে আরো একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হয়, যে কালারটি আপনি দিচ্ছেন সেটি আধৌ তাদের পছন্দ হয় কিনা সে বিষয়ে জানা। তাহলে ডিজাইনটি সুন্দর ও মিনিংফুল হবে।

লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন, কারন আপনার শেয়ারের কারনে আপনি অন্যদের উপকার করছেন এবং সেটি একসময় আপনার নিজের উপকারেও ফিরে আসবে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। পোস্ট সম্পর্কে অবশ্যই আপনার মতামত জানাতে এবং আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

তো, আজ এই পর্যন্তই। নিজের স্কিলকে আরো চাঙ্গা করতে Zafidigital.com সাথেই থাকুন। ডিজাইন নিয়ে আরো ভালো কিছু নিয়ে অন্য একদিন লিখবো। সবাই ভালো থাকুন। কাজ করুন, সফল হোন।

6 comments on “টি-শার্ট ডিজাইন- নিজেই করুন সেরাদের সেরা ডিজাইন

Sawrav Chowdhury
Reply

এই বিষয়ে যারা নতুন তারা আপনার এই আর্টিকেল টি পড়লেই তাদের ৯০% প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে ।খুব ভালো লিখেছেন ।

Reply

চমৎকার একটি পোস্ট, ধন্যবাদ লেখককে। অনেক জরুরি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেলাম যা আমাকে অনেক সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *